- 62
- 0
অদ্ভুতুড়ে
পর্ব --চার
কি অদ্ভুত একটা নেশায় পেয়েছে অর্ককে... সারাদিনের অপেক্ষা রাতে পূর্ণতা পায়!
'সে ' এসে বসলে ওর মন অদ্ভুত ভাবে শান্ত হয়ে যায়,
আর হাত চলে নিজের ইচ্ছেয়!
এক রাতে ওর মনে হলো 'তার' মুখটা যেন একটু ঘুরে গেছে,
ও এগিয়ে গিয়ে হাত দিয়ে 'তার ' মুখটা ধরে ঘোরাবার চেষ্টা করলো,
কিন্তু ওর হাতটা যেন হাওয়ায় ঘুরে এলো,
কেউ তো নেই সেখানে!
গা ছমছম করে উঠলো ওর!
কিন্তু ওই তো 'সে ' বসে আছে ওর সামনে....
তবুও ধরা ছোঁয়ার বায়রে!
হাল্কা হাসি খেলে গেলো 'তার ' ঠোঁটে,
কিন্তু চোখে তো বিষন্নতার ছোঁয়া!
বললো... পারবে না তুমি আমায় ছুঁতে,
পারবে না সুবীর!
আমি তো আর বেঁচে নেই!
কিন্তু অর্ক 'র তো মন মানছে না,
ও তো এই কদিনে এই মেয়েকে যে ভালোবেসে ফেলেছে!
ওর রোজকার অপেক্ষা, কখন 'সে ' আসবে,
ওর সামনে বসবে, আর ছোট ছোট কথায় ওর আর সুবীরের ছোটবেলার গল্প বলবে,
সুবীরের পরিবার, ওর বন্ধুরা,
ওর পড়াশোনার প্রতি ভালোবাসা,
ওর অসম্ভব সুন্দর ছবি আঁকার হাত,
ওদের ভালোবাসার ছোট ছোট মুহুর্ত,
সব শুনতে শুনতে ছবি আঁকা এগিয়ে চললো!
দেখতে দেখতে ছবিটা আঁকা সম্পূর্ণ হতে চললো,
অর্ক চাইলেও আর দেরী করতে পারলো না!
আর 'সে ' ব্যস্ত হয়ে রয়েছে , ছবি শেষ হওয়ার জন্য!
অর্ক কে ' সে ' মনে করিয়ে দিলো যে সুবীরের সঙ্গে বিয়ে হওয়ার সময় পুরোহিত মশাই বলেছিলেন...
এ বন্ধন সাত জন্মের বন্ধন,
এই বন্ধন কেউ খন্ডাতে পারবে না!
তাই ও ছটফট করছে মুক্তির জন্য,
যাতে ও তাড়াতাড়ি ফিরে আসতে পারে অন্য রূপে, আবার ওর প্রাণের প্রিয় সুবীরের নতুন জীবনে!
একদিন সত্যি ছবিটা সম্পূর্ণ হলো...!
ভারি সুন্দর হয়েছে ছবিটা, একদম যেন জীবন্ত!
অর্ক নিজেই অবাক হয়ে গেলো,
এতো নিখুঁত ছবিটা ও এঁকেছে ??
যাই হোক, 'সে ' ও বুঝে গেলো যে ছবিটা তৈরী!
এবার 'সে ' বললো... এবার তাহলে আমার শ্রাদ্ধ শান্তিটা করে ফেলো!
অর্ক 'র কথা সরছে না,
বড় বড় চোখ করে তাকিয়ে বললো..
তুমি চলে যাবে ?
আর তোমার সঙ্গে দেখা হবে না?
'তার ' ও আজ মন খারাপ!
যে মেয়ে ঝর্ণার মত সারাক্ষণ কলকল করে কথা বলে যেতো, সে আজ চুপ!
শুধু বললো... বেশী দেরী করোনা,
আমার যে তোমার কাছে ফিরতে হবে!
এ কেমন বন্ধন..?
কেউ কি কোনোদিন শুনেছে,
না বিশ্বাস করবে...?
কিন্তু অর্ক যে ওকে ছাড়তেই চাইছে না!
আবার কবে দেখা হবে, কি রূপে দেখা হবে,
আদৌ এ জীবনে দেখা হবে কিনা.... কে জানে?
তাই ওর অবুঝ মন বলছে... যে ভাবে আছে, থাক না!
কিন্তু 'সে ' তো সেটা মানতে রাজী না,
'তার ' মুক্তি চাই , যাতে সে নব কলেবরে ফিরে আসতে পারে!
ছবিটা আঁকা শেষ হয়েছে ঠিকই,
কিন্তু সেটা বাঁধাতে হবে,
শ্রাদ্ধের ব্যবস্থা করতে হবে,
এ সব করতে তো সময় লাগবে!
তাই অর্ক 'তার ' কাছ থেকে কথা আদায় করে নিলো, যে, যতদিন না সব ব্যবস্থা হচ্ছে,
আর শ্রাদ্ধ শান্তি হচ্ছে, 'সে ' রোজ যেমন আসতো, তেমনই আসবে!
'সে'ও শর্ত মেনে নিলো, আর আগে মত রোজই আসতে থাকলো..!
কলকল করে গল্প করে যায় 'সে' ...
কোথায় ওদের বাড়ি ছিলো, কোথায় পাঠশালা,
খেলার মাঠ, ভালোবাসার ছোট ছোট মুহুর্ত,
কোন পুকুর পাড়ে বসে সুবীর ওর ছবি আঁকতো,
আরো কত কথা!
অর্ক সারাদিন কাজের শেষে এসে তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে ,
কখন 'সে ' আসবে!
যে কটা দিন ওকে কাছে পাওয়া যায়,
সেটাই ওর কাছে অনেক!
জানে, ছেড়ে তো দিতেই হবে, তবু কাছে ধরে রাখার অদম্য ইচ্ছা কে সামলাতে পারছে না!
এই রাত গুলো যে ওর কাছে বড্ড দামী!
ক্রমশঃ
0 Comments.