- 9
- 0
পুপুর ডায়েরি
আমি একটি মেয়েকে চিনেছিলাম, বোরাল শ্মশানে, গড়িয়াতে। সে একা হাতে আমার বড় জেঠামশাই, ডাক্তার বিশ্বনাথ ভট্টাচার্য-এর দাহ সম্পন্ন করেছিল অত্যন্ত নিপুণ হাতে।
ছিপছিপে, ছোটোখাটো মাপের কালো মেয়েটির সাহস, আর সৌন্দর্য আমায় মুগ্ধ করেছিল।
আমি তখন সতেরো।
সবে জয়েন্ট এনট্রানস পরীক্ষা দিয়েছি। রেজাল্ট বেরোয়নি। বাবার সাথে গেছিলাম বড়ো জেঠুর বাড়িতে সে দিন।
দেখেছিলাম, মা কালির মত শক্তিময়ী সেই মেয়ের তেজ।
সে বলেছিল, আমি একাই সব খানি করবো। ডাক্তারবাবুকে বাবা ডাকি না? আমার অসুখে ত উনিই সারিয়ে দিছিলেন।
বাবা,আমার পাশে দাঁড়িয়ে, যথারীতি আমার কাঁধে হাত রেখে, আমাকে দাহ করার পুরো পদ্ধতি, কি ভাবে পঞ্চভূত আবার ফিরে যায় ব্রহ্মাণ্ডে, হিন্দু ধর্মের ভালো মন্দ, আমাদের ঐতিহ্য, সব বুঝিয়ে ছিলেন। আমার পথ চলা আর যত যত কথা সবই হত, ওই, কাঁধে হাত রেখে।
আরও দেখিয়ে ছিলেন, ঐ শ্মশানের প্রান্তে প্রাচীন মন্দিরে, টেরাকোটায়, পাথরে, শ্রীমন্ত সদাগরের নাম লেখা ভেঙে যাওয়া চণ্ডী মন্দির।
বলেছিলেন, দেখো নিচে হেজে যাওয়া খাত। এখানে আগে বানিজ্যের ঘাট ছিলো। চণ্ডী মঙ্গল শুরু হয়েছিলো এইখানেই।। এখন থেকে সপ্ত ডিঙা অজস্র মাঝিমাল্লা নিয়ে রওনা হত বানিজ্য করতে।
তখনকার সিংহলে যাওয়ার কথা মঙ্গল কাব্যে লেখা আছে।
পোতে সারি সারি বিরাট জাহাজ, নৌকা ভাসতো।
আজকের বাঙালি, তার নৌবাহিনীকে ভুলেই গেলো, বাকি তার গৌরবের অনেক কিছুর সাথে।
পশ্চিম ভারত সেগুলো ধরে রেখেছে।
বাংলা এখন সব ভুলে গেছে।
আর এখানে সপ্ত ডিঙা ভাসে না।
0 Comments.