- 5
- 0
পুপুর ডায়েরি
প্রথম ডায়েরি পুপুর, ক্লাস থ্রি।
নীল প্লাস্টিকের মলাট। ছয় ইঞ্চি লম্বা ।
তাতে বাবা মানে মানুপুপুর বা মশাই, ডিক্টেশন দিয়ে লিখিয়ে দিলেন।
একটা এরকমই বিকেলে।
বা বললেন, লেখো তো মা গো।
পুপুর প্রশ্ন করার অভ্যাস ছিল না।
সে গটগট করে পেন দিয়ে লিখে নিল।
“ দিল ওয়ালে দিল গির হুয়া ক্যা শোচ রহা হ্য তু?
সুখ অউর দুখ কো সমঝ বরাবর
তু ধিরজ ধর সাধু…. ”
পুরো গানটাই লিখে নিলো পুপু।
আর, তারপরে আরেকটা গান।
“ তু ঢুন্ডতা হ্য জিসকো, বসতি মে ইয়াকে বন মে
উও শাওঁরা সালোনা রহতা হ্য তেরে মন মে…. ”
সেও লম্বা গান।
খুব যত্ন করে গেয়ে শেখালেন বাবা।
সারা জীবন, মানে বাকি যে সাইঁত্রিশ বছর পুপু আর বা, কাছাকাছি হয়ে থেকেছে, তার দু চার দিন গেলেই, হয় বাবা মশাই গেয়ে শুনিয়েছেন, নয়, বলেছেন, গাও তো মানি একবার।
এই রকম এক গরম ছাব্বিশে মে সন্ধ্যায়, বাইশ বছর আগে, লম্বা শ্বাস ফেলে ঘুমিয়ে পড়লেন আমার পরমগুরু।
আমি বাকি জীবনের রাস্তায় খুঁজে বের করলাম, এ গান কিসে ছিল।
আর কেন এইসব মনে রাখা বড্ড জরুরি হবে একলা পুপুর।
পুপুর ছানারাও শিখে মনে রেখেছে এই সব।
আর আজকের দিনে, যখন, বাবা এবং পারিবারিক পুরুষদের প্রভাব ও স্বভাব নিয়ে চিন্তা আলোচনা অনেক, আমি রোজ কৃতজ্ঞ চিত্তে মনে রাখি, আমার ভালবাসার বৃত্তে যে ক জন পুরুষ তাঁদের মধ্যে এই মানুষটি, আমার শত অপরাধে৷ শত ভুলত্রুটিতেও কখনও একটি কড়া শব্দ উচ্চারণ করেননি।
আজ যারা বড়ো হয়েছি বা ছোটোদের বড়ো করছিব,দুই দলই নিশ্চয়ই বুঝবো, এটা কত কঠিন কাজ, আর কতটা ভালোবাসা থাকলে, এমন বাবা হওয়া যায়।
0 Comments.