- 5
- 0
বিসর্জন
দশমী এলে বুকের ভেতর শূন্যতা,
আমার জন্মদায়িনী মাকে শেষ দেখেছিলাম দশমীর রাতে।
মৃন্ময়ী চিন্ময়ী মাকে আদর করি,
চুমু খাই, গর্ভধারিণী মায়ের স্পর্শ ওখানেই যেন থমকে।
পঞ্চমী থেকে দশমী আমার মা আসে গৃহ প্রাঙ্গনে, তার গন্ধ, চোখের ভাষা সব মিশে যায় দাঁড়িয়ে থাকা দেবীর অবয়বে।
পুরোহিত মন্ত্র পাঠ করেন-
"ওঁ হ্রীং স্রীং দুর্গায় নম:"
আমি বিড়বিড় করি-
"ওঁ হ্রীং স্রীং মাতৃদেব্যায় নম:"
মায়ের মুখ আলোকিত ক্রমশ
শঙ্খ ঢাক কাঁসর ধূপ ধুনো চামড়ের মাঝে
দশ হাতে অস্ত্রের বদলে কেবল হাতা খুন্তী, ঝুলঝাড়ু, ফুলঝাড়ু
বালতি, ভিজে জামাকাপড়ের স্তূপ, খাতা, বই, পেন পেনসিল।
বিদায়ের মুহূর্তে
খুব কাঁদি, এই তো একটু বাদেই বিদায়ের নামে মুখাগ্নি হবে মায়ের...
অস্থি ছাই ভস্ম নাভিকুণ্ডল ভেসে যাবে
আমার শক্তিরূপেনু সংস্থিতা ,
প্রতিবার শেষ সিঁড়িতে তুমি এসে দাঁড়াও
ক্রমশ কাদা মাটি জল হয়ে যাও
নশ্বর জীবন ছেড়ে
পশ্চিমের আকাশে রামধনু হতে
মৃন্ময়ী চিন্ময়ী জগদাত্রী
মা,
আমার মা,
শেষ হামি খেয়েছিলাম দশমীর রাতে...
তারপর থেকে কেবল অনন্ত শূন্যতা...
0 Comments.