- 32
- 0
বিকেল ঠিকই হলো
সেদিন বিকেল ঠিকই হলো,
তবে আমি আটকে রইলাম—
একটি কালবৈশাখীর প্রবল দাপটে।
প্রশান্ত মহাসাগরের সমস্ত
অগ্নিগিরিগুলো থেকেও—
আমার মগজে জ্বলছে তীব্র আগুন।
এক নিমেষে যেন ছারখার করে ফেলব সব।
তবুও আমার হৃদয়ে একটি সূর্য রয়েছে—
উষ্ণতা দিয়ে জীবন পোষণ করে রাখে।
আমি আজকাল খারাপ থাকতে শিখেছি,
আমি আজকাল উদাসীনতায় ভুগতে শিখেছি।
আমার গলা এখন ভেঙে যায়, কাঁপে রীতিমতো।
আমি এখন রাতের পর রাত জেগে থাকতে শিখেছি।
আমি বিশ্বের ভালোবাসায় পড়েছি।
আমার অনেক কষ্ট—
দুঃখ বহন করে চলেছি,
সেই আরাবল্লী পাহাড়ের মতো করে।
আমি উত্তরে হিমালয়ে কান্না বরফে জমতে দেখেছি,
আমি তাকে দক্ষিণে দেখেছি শুকিয়ে যেতে।
বৃদ্ধ পাঁজর ভেদ করে গুলি উড়তে দেখেছি।
দেখেছি, অদৃশ্য পাথরের চাপেও
মানুষকে প্রাণভরে হাসতে।
সেই মানুষের দল, আজও একই রয়েছে—
যারা চাইত পৃথিবীকে কারাগারে বন্দি করতে।
টাকার ঢেউয়ে তাদের দেখেছি পা ভিজিয়ে আনন্দ করতে।
একদিন টাকার বানে ভাসবে লাশ।
আমি দেখেছি একটি যুবতী মাকে,
ঝলমলে আলো নিয়ে শিশুটির সাথে নিশ্চিন্তে খেলতে।
দেখেছি তার ক্ষুধার্ত শরীর থেকে
শেষ দুধের ফোঁটায় শিশুর পেট ভরাতে।
ভিড়ের পাশে অথচ সে বসে থাকে,
ক্লান্ত দেহে অভিশাপের মতো ক্ষুধা নিয়ে।
আমার জীবনের মতোই আমার উদ্দেশ্য নির্ধারিত।
ব্রহ্মাণ্ডের রাজকীয় ব্যবস্থাপনায় রয়েছি।
সেই দলদের ভয় করি না আমি।
কারণ,
আমি আজকাল খারাপ থাকতে শিখেছি।
0 Comments.