- 6
- 0
পারগোলার নিচে লবঙ্গলতিকা
পারগোলা দাঁড়িয়ে থাকে স্ট্যাচু হয়ে,
কাঠের শরীরে রোদ জমে,
বৃষ্টির দাগ শুকিয়ে যায়,
কুয়াশার ঋতু এসে খেলা করে,
তারপর একদিন তার নিঃসঙ্গতা
ডেকে আনে লবঙ্গলতিকাকে।
প্রথমে একটি সবুজ ঝিরিপাতালতা,
তারপর আর-একটি।
ধীরে ধীরে সে পারগোলার
প্রতিটি শূন্যতাকে পূর্ণ করে।
কোনো তাড়াহুড়ো নেই;
কেবল আলতো স্পর্শে সে
কাষ্ঠল নিঃসঙ্গতাকে জড়িয়ে ধরে।
মনে হয়, আশ্রয়ও কখনও কখনও
ভালো বাসায় পরিণত হয়।
পারগোলা, যার কাজ শুধু বহন করা,
সে যেদিন প্রথম পাঁচবাহুর লাল তারাটিকে
ফুটে উঠতে দেখে, বিস্মিত হয়।
অথচ আজ বুঝতে পারে— যে মাথা নত করে
অন্যকে উঠতে দেয়, শেষ পর্যন্ত
তারই কপালে লেখা থাকে।
সন্ধ্যা নামলে ফুলের উৎসবে
বাতাস এসে মজলিশ করে।
আকাশ কিছু নক্ষত্র পাঠিয়ে
সবুজ ছাউনির গায়ে বেঁধে দেয়।
পথিকেরা সেদিকে তাকায়;
কেউ দেখে ফুল, কেউ দেখে লতা,
আর কেউ শোনে বাতাসের কথা—
আদতে এমন দৃশ্যের অন্তরালে
এমন এক সত্যের অবতারণা
যার অর্থ– সম্ভবত পৃথিবীর
সবচেয়ে সুন্দর সম্পর্কগুলোর একজন
উচ্চতা দেয়, অন্যজন রঙ; একজন অবলম্বন,
তো— অন্যজন প্রস্ফুটন আর দু'জনে মিলে
তৈরি করে এমন একটি আকাশ,
যার নিচে দাঁড়িয়ে মানুষ
নিজের ভেতরেও অনাগত বসন্তের
পদধ্বনি শুনতে পায়।
0 Comments.