- 13
- 0
এমন রঙটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি ।'
শরতের রোদ্দুর বেজায় খোলতাই মেজাজে আছেন এ বছর । রবীন্দ্র সরোবর , বিবেকানন্দ পার্কের মাঠে লুটোপুটি খেয়ে , গড়িয়াহাটের ঝুমকাদের ছুঁয়ে দিব্যি বলছে 'ওয়াট ঝুমকা?' এই শহরটাতে পা দিলেই বোঝা যায় শরত রানীর ফন্দীফিকির। রাস্তার অবস্থা বেহাল, সব গলিতে প্যান্ডাল। সারা বছর বাঁশ খাওয়া , খিটকেল, গোমড়ামুখো মানুষগুলোও বাঁশের গায়ে রোদ্দুর পিছলানো দেখে কেমন গদ্গদ হয়ে পড়েছে দেখো ।
এই ম্যজিক এই শহরেই হতে পারে ।
"এমন রঙটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি " ।
সারা বছরের সঙ্গী বিদ্ঘুটে তে চাকার যান গোলপার্ক থেকে যাদপ্পুর থানা ২৫ টাকা ভাড়া চাইলে পাশে বসা যুবতীটি বলে ফেলেন 'তিনজনের ভাড়া দিয়ে দেব চলুন, দাঁড়াতে হবে না কোথাও ।" এ তো শরতের রোদ্দুরের সাথে মা দুগগার আন্ডারস্ট্যান্ডিং।
"এমন রঙটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি " ।
গোলপার্ক থেকে সেলিমপুরে আসতে না আসতেই দেখা যাবে প্রথম শাড়ী পরতে শেখা তনয়ারা , হাঁটুর উপরে টাঙ্গাইল বা লিনেন শাড়ীটি তুলে বাঁশ ডিঙ্গিয়ে বাস ধরতে ছুটছেন । মাথায় ফ্রিদা কোহেলোর মত গাঁদা ফুলের মালা দেওয়া । দিব্যি লাগছে তাদের । এই রঙ দেখার জন্য না দাঁড়িয়ে পারা যায় ? না যায় না ।
'এমন রঙটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি " ।
এক বছর পঞ্চান্নর যুবতী নীল ঢাকাই জামদানী পরেছেন , মাথাভর্তি টকটকে ভোরের সূর্যের মত লাল চুল । দুই সদ্য যৌবনে অভিষিক্ত ছেলেমেয়ে পটাপট গলায় ঝোলানো ক্যাননে তাদের সেই অচেনা কাকীমার ছবি তুলছে আর তিনিও দিব্যি পোজ দিচ্ছেন । সেই ভদ্রমহিলার রঙবাহারী মডেল হতে কোন আপত্তি নেই ।
'এমন রঙটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি " ।
বুড়ো অকেজো শহরটা শরতের রোদ্দুর তুলির ম্যাজিকে একদম বদলে ফেলেছে নিজেকে । কোথাও না বেরোনো ,রান্নাঘরে মজে থাকা গিন্নী দেখছেন তাঁর রান্নাঘরের জানলায় রাখা সাদা ফুলের টবে এসে বসেছে এক প্রজাপতি । তার ডানা থেকে চুইয়ে পড়ছে পড়ছে শরতের রোদ্দুর রঙ আর শিউলির সাদা, কমলা রঙ ।
'এমন রঙটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি " ।
সবার পুজো ভালো কাটুক ।
0 Comments.