- 156
- 0
কবিতা গুচ্ছ।
এক।
সাজের পরে সাজ
নতুন শাড়ি, আঁচল খসখস
চোখের কোলে কাজল কারুকাজ
চুলের শেষে জলের টুপটাপ
কপালে টিপ, কাঁকনে রিনিঝিনি
উৎসবের দিবস সেজে ওঠে
উৎসবের যামিনী আলো মাখে
স্মৃতির রেখা দুয়ারে আল্পনা
আলতা ছাপ হারায় কোন বাঁকে
আকাশ জোড়া রঙের মোহ মায়া
সন্ধে পারে অতলে ডুবে যায়।
দুই।
একটি তারা একলা জ্বলে
রোজ বিকেলে আকাশ পারে
সন্ধে হলে কোথায় হারায়
অনেক তারার নীলচেবেলা পড়ে এলে
মনে হয় কত কাজ বাকি
আঁধারের গায়ে ফোটে অচেনা জোনাকি ।
তিন।
ধীরে পাড় ভাঙে
জল বাড়ে, ফুঁসে ওঠে আক্রোশে
ঝুপ ঝুপ শব্দ হয়
ক্ষয়...
কখন যে জমে ওঠে
পুঞ্জ পুঞ্জ ক্ষোভ, ক্রোধ
নির্মম হয়ে ওঠে ভেতরে ভেতরে অসহায়
ক্ষয়...
তারপর শুধু ভেঙে পড়ার শব্দ -
একদিন থেমে যায়
সম্পূর্ণ হয়
ক্ষয়।
চার।
দিন যে চলে যায়, পিছনে ফিরে চায়
কি যেন পড়ে থাকে, কি যেন ফেলে যায়
চিকন জলরেখা, ঝিমোনো কোন আলো
কোথায় পড়ে থাকে, কোথায় ফেলে গেলো!
বনতলে ঝুরো জ্যোৎস্না, তার পাশে ছায়া
আকশের নীল মেশা গোলাপি, কমলা
সোহাগী বিনুনি আর বিবাগী খোলা চুল
ছড়ানো দুটি হাতে কুড়োনো মেঠো ফুল
পড়েই থাক তবে, ঈষৎ এলোমেলো
দিনের আঁচলের কলকা, বুটি গুলো।
পাঁচ।
ব্যথার আড়ালে দাঁড়ালে
কেমন করে তাকে দেখি!
না ফোটা শিউলি ফুলে
না নামা বৃষ্টিতে
না বলা কথার ভেতর?
ভোর হওয়ার আগে
রাত যেমন একটু একটু করে নিজেকে মুছে ফেলে
ঠিক তেমনই সে দাঁড়িয়ে থাকা!
পুরোনো একটা গন্ধ মনে পড়ে বা মনে পড়ে না..
ছয়।
বেলা তো যাবেই চলে
দীঘল ছায়ারা জোট বেঁধে আসে
জমা জলে অল্প আলো দুলে দুলে ভাসে
ফুরোয় বেলা আলো মুছে
ফিরে যাওয়া, ফেলে যাওয়া - অন্ধকারে ডুব
কত কথা পড়ে থাকে একেবারে একা একা, চুপ...
সময় কেবলই পোড়ে সর্বস্ব বুকে করে নিয়ে। ভীড়ে
খুঁজতে থাকি, পাই না তাকে।
একলা কোথাও জ্বলতে থাকে।
0 Comments.