Fri 26 June 2026
Cluster Coding Blog

অণুগল্পে রত্না দাস

maro news
অণুগল্পে রত্না দাস

ছুরির ধার 

অমলধবল বিছানার তোষকটা তুলে দেখলো, না, সব ছুরিগুলোই যথাস্থানে আছে। বেশ চকচক করছে ওর চোখের মতন। ওর অনেকদিনের শখ ছুরিগুলোর সহি ইস্তেমাল করবার। কিন্তু কবে যে হবে কে জানে!


প্রথম ছুরিটা রেখেছে বাবার জন্য। রোজ রাতে মাল টেনে এসে মাকে উদমা *ক্যালায়* তারপর সওয়ার হয় ঐ যন্ত্রণায় কাতর হওয়া মানুষটির ওপর। ছুরিটা একদিন ঠিক গুঁজে দেবে বাবার দুপায়ের ফাঁকে।


দ্বিতীয়টা রেখেছে জোছনদাদুর জন্য। পটাদার তিনবছরের মেয়ে রুকুকে চকলেট দিয়ে ঘরে নিয়ে ইজের খোলার চেষ্টা করছিল ও নিজের চোখে দেখেছে। ছুরিটা জোছনদাদুর পেছনে গেঁথে দেবে।


তিননম্বরটা রেখেছে বৌদির জন্য। দাদার এতো ভালোবাসা সত্ত্বেও পাশের ফ্ল্যাটের বিমলদাকে দেখলেই আঁচল ফেলে দেয়। ছুরিটা বৌদির ক্লিভেজে গুঁজবে ।


চারনম্বরটা রেখেছে শাকিল মানে আমিনার দাদার জন্য। ওকে দেখলেই প্রচন্ড লাল চোখে ওর দিকে তাকিয়ে থাকে। কেন, আমিনাকে কি ওর ভালো লাগতে নেই! ও তো শুধু চোখ ভরে আমিনাকে দ্যাখে। কি মিষ্টি! বুকের ভেতর কি যেন লাফায়। শাকিলকে অবশ্য গোঁজার ইচ্ছে নেই, শুধু একটু গালে টেনে দেবে। কিন্তু কবে!


অপেক্ষায় আছে, যেদিন অমলধবল পালে নয়, তালে মন্দমধুর না, জোরালো হাওয়া লাগবে সেইদিন।


একবার লাগলেই...

Admin

Admin

 

0 Comments.

leave a comment

You must login to post a comment. Already Member Login | New Register